🏠︎ » খেলাধুলা » ফুটবল » ২৮ কোটির টিকিট! বিশ্বকাপ ফাইনালে বিলাসিতার ছোঁয়া

২৮ কোটির টিকিট! বিশ্বকাপ ফাইনালে বিলাসিতার ছোঁয়া

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আসর ফুটবল বিশ্বকাপ। তবে ২০২৬ সালের আসরকে ঘিরে যে চিত্র সামনে আসছে, তা অনেক ভক্তকেই হতাশ করছে। ইতিহাসের সাক্ষী হতে চাইলে এবার গুনতে হচ্ছে অবিশ্বাস্য পরিমাণ অর্থ যা সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের নাগালের অনেক বাইরে।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মেগা ফাইনালের একটি টিকিটের দাম পৌঁছেছে প্রায় ২৩ লাখ মার্কিন ডলারে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২৮ কোটি টাকারও বেশি। ফিফার অনুমোদিত রিসেল প্ল্যাটফর্মে এই দামে টিকিট তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি সবচেয়ে কম দামের টিকিট কিনতেও খরচ করতে হচ্ছে ১০ হাজার ডলারের বেশি, অর্থাৎ প্রায় ১৩ লাখ টাকা।

এই বিশাল অঙ্কের লেনদেন থেকে বড় অঙ্কের কমিশন পাচ্ছে আয়োজক সংস্থাও। প্রতিটি টিকিট বিক্রিতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকে ১৫ শতাংশ করে মোট ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়া হচ্ছে। ফলে অল্প কয়েকটি টিকিট বিক্রিতেই কোটি কোটি টাকা আয় হচ্ছে।

শুধু টিকিটেই সীমাবদ্ধ নয় ব্যয়ের চাপ। বিশ্বকাপ উপলক্ষে আবাসন, যাতায়াত এবং অন্যান্য খরচও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। একটি হোটেল কক্ষের ভাড়া যেখানে আগে ছিল ১৫৭ ডলার, সেটি বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩,৮৮২ ডলারে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় সাড়ে চার লাখ। ট্রেন ভাড়া ১৩ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ১৫০ ডলার, আর স্টেডিয়ামে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য গুনতে হচ্ছে প্রায় ২২৫ ডলার।

এবারের আসরে নতুন করে যোগ হয়েছে ফ্যান জোন প্রবেশ ফি-ও। আগে যেখানে এসব এলাকায় প্রবেশ ছিল উন্মুক্ত, এখন সেখানে ঢুকতেও দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ।

এই ব্যয়বহুল পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনাও কম নয়। অনেকের মতে, বিশ্বকাপ এখন শুধুই ধনীদের জন্য একটি বিশেষ আয়োজন হয়ে উঠছে। এমনকি আয়োজক দেশের একাধিক কর্মকর্তাও এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

ফিফা কর্তৃপক্ষ অবশ্য এটিকে ‘ফুটবল উন্নয়নের অংশ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। তবে সমালোচকদের দাবি, এই উন্নয়নের সুবিধা সাধারণ ভক্তদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। বরং বিশ্বকাপ ধীরে ধীরে একটি বাণিজ্যিক মেগা ইভেন্টে পরিণত হচ্ছে, যেখানে আবেগের চেয়ে অর্থই হয়ে উঠছে প্রধান নিয়ামক।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে ২০২৬ বিশ্বকাপ কি এখনও ফুটবলপ্রেমীদের উৎসব, নাকি এটি এখন কেবল উচ্চবিত্তদের বিলাসী অভিজ্ঞতা?

আরও পড়ুন

সর্বশেষ